মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ছাগলনাইয়া উপজেলার খেলাধুলা ও বিনোদন

 

ছাগলনাইয়ার খেলাধুলাঃ-

 

অতীতে খেলাধুলায় ছাগলনাইয়ার বিশেষ নাম ছিল। সে সময় এই জনপদে বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলা হতো যেমন-হাডুডু, দাড়িয়া বান্দা(গাদন), গোল্লাছুট, কানা মাছি, বুড়িরচু, ডাংগুলি, লাঠিখেলা,মল্ল যুদ্ধ (কুস্তি) ও ভারউত্তোলন প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমে এলাকার বিভিন্ন  মাঠে স্থানীয় বা জাতীয় দলের খেলোয়াড় এনে ফুটবল প্রতিযোগিতা হতো। বর্তমানে এখানকার বিভিন্ন মাঠে এখনো ফুটবল টুর্নামেন্ট ও  হয়ে থাকে।তাছাড়া মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট তাও বেশ জাঁক-জমকের সাথে অনেক ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হয়। শীতকালে স্থানীয় ও জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে ব্যাটমিন্টন প্রতিযোগিতা হতে দেখা যায়। এছাড়া সরকারী উদ্যোগে বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানের খেলাধুলা সহ প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বহু বাছাই পর্বের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্টান উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

 

বিনোদনঃ-

 

ছাগলনাইয়ার বিনোদেনের ক্ষেত্রে বিশেষ এক ঐতিহ্য বিদ্যমান। প্রাচীন কাল থেকে এখানে যাত্রা, থিয়েটার হতো। তাছাড়া বিভিন্ন প্রকার ধর্মীয় উৎসবের সাথে সর্ম্পকিত বিভিন্ন মৌসুমে মেলা অনুষ্ঠানে যাত্রা, সার্কাস, পুতুলনাচ, ভ্রাম্যমান সিনেমা, নাগরদোলা মানুষের কাছে বিনোদনের বড় মাধ্যম। তাছাড়া কবিগান, জারিগান, বালককীর্ত্তন, রামায়ণ প্রভৃতি পালা এখনো মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বিভিন্ন সময়ে এগুলো এখনো গ্রামগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়। তাছাড়া নৌকা বাইচ, ঘোড়দৌঁড়, মোরগ লড়াই, ঘুড়ি ওড়ানো ইত্যাদি প্রতিযোগিতা মানুষ এখনো উপভোগ করে থাকে। অনেক সময় শীতের প্রারম্ভে বিভিন্ন নাট্যগোষ্ঠী এলাকায় যাত্রা পালার আয়োজন করে থাকে। বহু শতাব্দী ধরে এই এলাকার বিভিন্ন জাতি ও ধর্মাবলম্বীদের সহাবস্থানের ফলে এখানকার প্রধান অধিবাসী হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে এক সম্পৃতির মিলবন্ধন স্থাপিত হয়েছে এবং সুদীর্ঘ কালধরে তা চলে আসছে। দেশ, জাতি, বর্ণ, ধর্ম, গোত্রের ভেদ, বাঁধা, কোন্দল সংঘর্ষ এড়িয়ে প্রেম, প্রীতি, স্নেহ, সখ্য, শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার বন্ধনের মধ্যদিয়ে ব্যক্তিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বিকাশ ঘটেছে।

 

বার্তাঃ-

 

ছাগলনাইয়ার ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। প্রাচীন ও মধ্যযুগের অনেক নিদর্শন আজও বিলুপ্ত হয়নি বরং তা ঐতিহ্যের ধারক হয়ে কালের কীর্তি ঘোষণা করছে। দক্ষিণ অঞ্চলে এই কীর্তি সংরক্ষণ ও এলাকাবাসীর অতীত ঐতিহ্য সাংষ্কৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রাখা সহ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দর বনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অনস্বিকার্য।