মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

 

চাঁদগাজী ভূঁঞা

ফেনীর পূর্বাঙ্কলের একজন স্বনামধন্য জমিদার চাঁদগাজী ভূঁঞা। মোগল আমলে তার এ অঙ্কলে আগমন ঘটে। প্রথমে তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার দক্ষিণ পশ্চিমে ১৬৩৫ সালে আগমন করেন। পরবর্তী সময় নদীর ভাংগনের কারণে তার প্রচুর ধন সম্পদ এবং লোক লস্কর সহ কর্তমান মার্টিয়াগোদা গ্রামে বসতি স্থাপন করেন এবং মোগল সনদ প্রাপ্ত জমিদার রুপে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তাঁর জমিদারী অঙ্কল ছিল ত্রিপুরা রাজ্যের পাদদেশে এবং বর্তমান ফেনী জেলার পূর্বাঙ্কল। মোগল সাম্রাজ্যের পতনের পর তৎকালীন ত্রিপুরা মহারাজ্য লক্ষণাদিত্য মানিক্য বাহাদুর কর্তৃক তাঁর জমিদারীর পতন ঘটে।

তিনি একজন ধর্মভীরু জনহিতৈষী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত চাঁদগাজী ভূঁঞা মসজিদ, চাঁদগাজী ভূঁঞা নামীয় বহু দীঘি এবং চাঁদগাজী বাজার ও চাঁদগাজী কাছারী বাড়ী কালের সাক্ষ্য হয়ে এখনও তার ঐতিহ্য বহন করে আসছে। এই কালজয়ী মহাপুরুষকে ঘিরে পরবর্তীতে স্থাপিত হয়েছে চাঁদগাজী স্কুল, চাঁদগাজী কলেজ, চাঁদগাজী মাদ্রাসা, চাঁদগাজী ডাকঘর ও ইউনিয়ন পরিষদের কেন্দ্রস্থল।

তাঁর নির্মিত চাঁদগাজী ভূঁঞা মসজিদ মোগল স্থাপত্যের অনুকরণে এক অপূর্ব সৌধ মালা যা এখনও দর্শক পর্যটকদেরকে বিন্সিত করে। মসজিদের প্রধান দরজার শিরদেশে আছে এক কালো রঙের শিলালিপি। তাতে উৎকীর্ণ আছে ফার্সী ভাষার,‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ’ এবং তিনি ছন্দের কবিতা। প্রায় তিনশত বৎসর পূর্বে নির্মিত এই স্থাপত্যশিল্প রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ। তাঁর সম্বন্ধে আর বিশেষ কিছু জানা যায়না ।

কৈয়ারা বিবি

ভাটির বাঘ শমসের গাজীর মাতা কৈয়ারা বিবি। বীরমাতাহিসাবে সমগ্র অঙ্কলে প্রশংসিত। গাজী মাতা কৈয়ারা বিবির নামে কৈয়ারা দীঘি খনন করা হয়। কৈয়ারা গ্রাম ও তাঁর স্মৃতিই বহন করছে। কৈয়ারা দীঘি অত্র এলাকার সর্বত্র বিশিষ্ঠতা লাভ করে। এ বিশাল দীঘি নির্মল ও সুস্বাদু পানির জন্য বিখ্যাত ।

শমসের গাজী

১৭০৭ সালের ৩ রা মার্চ সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর বিশাল মোগল সাম্রাজ্য তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যুব্ধবিগ্রহ ও উশৃঙ্খলতার সুযোগে খন্ড বিখন্ড হতে থাকে।

 

রেজু মিঞা

বিগত শতকের আনুমানিক মাঝামাঝিতে অত্র থানার বাঁশপাড়ায় তাঁর জম্ম বলে অনুমান। তিনি ত্রিপুরা মহারাজার তহশিলদার ছিলেন। তিনি আধুনিক ফেনীর স্থপতি কবি নবীনচন্দ্র সেনের সহায়তায় ও পরামর্শে মুহুরী নদীর উপর কাঠের পুল তৈরী করে দিয়েছিলেন বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। এতে তাঁর ব্যয় হয়েছিল ঐ সময়ে ৫০০ টাকা। বর্তমান রেজুমিঞা পুল, রেজিুমিঞা বাজার তাঁরই গৌরবময় স্মৃতি বহন করছে। বাঁশপাড়া তহশিলদার বাড়ী তাঁরই বসতভিটা। তিনি প্রায় নববই বছর সাফল্যের সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করে বর্তমান শতকের চল্লিশের দশকে মৃত্যুবরণ করেন বলে জানা যায়। ত্রিপুরা মহারাজার তহশিলদার রুপে তিনি এলাকার বহু উন্নয়ন মূলক কর্মে নিয়োজিত ছিলেন।

 

রুহুল আমিন


জন্মঃ ১৯৪১ সাল,ছাগলনাইয়া, ফেনী।
মৃত্যূঃ ১৬ আগষ্ট , ১৯৯১ সলে মাত্র ৫০ বৎসরে ইন্তেকাল করেন :
ফেনীজেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার,হরিপুর গ্রামের একজন কৃতিপুরুষ ।  কর্ম জীবনে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট শিল্পপতী ছিলেন,

এবং বাঙালী মুসলমানদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদান রাখেন। তার অতি নিকট আত্নীয় থেকে শুরু করে গ্রাম ও সমাজের গরীব এবং অসহায় মানুষকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করেন । তার এলাকার একমাত্র বেসরকাকী উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য ছিলেন । রামগড় ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এই ছাড়া ও তিনি এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ, মাদ্রাসায় অকাতরে দান করেন ।

আবিষ্কার : পরবর্তী জীবনে তিনি প্রযুক্তির মাধ্যমে মানব সেবায় নিজেকে গভীর ভাবে নিয়োজিত করেন । তার একান্ত প্রচেষ্ঠায় মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ১৯৭৭ সালে দিন রাত দু মাস পরিশ্রম করে সম্পূর্ন দেশিয় প্রযুক্তিতে একটি হেলিকপ্টার তৈরী করেন । ফেনী তথা বৃহত্তর নোয়াখালী সহ সারা দেশের মানুষের কাছে আলোচিত ব্যাক্তি হিসাবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন । তার প্রচেষ্টার ফল স্বরূপ ফেনীর বিরিঞ্চি গ্রামের হাঙ্কারে রেখে সরকারের উচ্চপ্রদস্থ ব্যাক্তিদের উপস্থিতিতে উক্ত হেলিকপ্টার উড্ডয়ন করেন । ১৯৯১ সালের ১৬ই আগষট মাত্র ৫০ বৎসর বয়সে দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন ।